গৃহত্যাগী

গৃহত্যাগী

!"!"!"!"!"!"!'!"


আষাঢ় মাসে গাঙে আইলো নয়া বানের

পানি

আমার ভিটেমাটি বাসাইয়া নিল গৃহত্যাগী

নদী।

নদীর যদি চিনতাম বাড়ি করতাম গিয়ে

নালিশ

কেন সে ডুবাইলো সব আমার অন্তর করলো

 বিষ

হালের লাঙ্গল নতুন ফসল নয়া দুইখান

গরু

দেখতে দেখতে ডুইবা গেল ছোট্ট বোনটা

তরু

নদীর টেকে বইসা কান্ধে মা, কান্ধে বুড়া

বাপ

মনে মনে নদীরে কয় তরে দিলাম

অভিশাপ

সর্বগ্রাসা রাক্ষসী তুই থাকবি চির

দুখে 

আবার আমি ঘর বানাইবো তোর চিতল

বুকে 

নদী কয় দুঃখে,বেদের মত যাযাবর রই 

আমি

উজান থেইকা আসে জল আসমান হয়

খালি

নামে শুধু নদী আমি জল তো আমার

নয়

আমারও দুঃখ আছে, বুকের মধ্যিখানে

ক্ষয়

এপার ভাঙি ওপার গড়ি নেইতো কারো উপর

খেদ

জন্মই আমার ভাঙা গড়ার, জানিনা অহর্নিশ   

ভেদ 


আমার আছে বসতভিটা নদীর অথৈ

জল

হিসেব করে দেখি নদীর আমার চেয়ে

বল

চৈত্র মাসে হাঁটি যখন আমি নদীর

বুকে

পাষানিয়া মন কি বুঝে নদীর দুঃখ

কিসে

নদী বাঁচায় নদী মারে নদীই করে

গৃহত্যাগী

নদীরে তোরে ছাড়া আবার আমার জীবন

আধাআধি।


কবিতা : গৃহত্যাগী

লেখক : অপূর্ব দাস

দশটি রঙ তুলির মানুষ

দশটি রঙ তুলির মানুষ

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"


১.

সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরছে পাখি

জলে ঘাসফড়িং এক ঝাঁক

বুড়ো মাঝি কাঁদছে দেখে

রক্তাক্ত উদাম মেয়েটির লাশ।


২.

পাড়ার মোড়ের গলি, সকালে 

হেঁটে স্কুলে যাচ্ছে নতুন বউটি

আঙুলে চুমু দিয়ে হাসছে

বুড়ো ভুঁড়িওয়ালা লোকটি।


৩.

বৃষ্টির পানিতে রাস্তা থইথই

অমলদা বাড়ি ফিরছে বহুদিন পর

শিশুকে কোলে নিয়ে নাচছে হিজড়েরা

শ্বেতাঙ্গিনী মেয়েটি দেখছে ব্যস্ত শহর।


৪.

সবুজ ঘাসে বসে একটি পুরুষ

পাখি নেই গাছে ঝরছে পাতা

যেখানেই তাকায় আকাশ জমিন আছে,

মনে নেই পিতার মুখ।


৫.

উড়ে যাচ্ছে কাক রোদের ঝাপটা চোখে

কাপড় নাড়ছে নারী দুপুরে ছাদে

বক্ষবন্ধনি ঝুলে আছে দেখে

পড়শী ছেলেটি দূরে মুচকি হাসে।


৬.

সাপ আর ব্যাঙের মাঝে শুয়ে আছে মাছ

বাইরে নৌকোর গলুয়ে জোস্নার চলাফেরা

হাতকড়া ছাড়া রোমশ রাতটা চলে যাক 

আজ নাসারন্ধে চাইনা বন্দুকের ধোঁয়া,থাক।


৭.

বিছানায় নারী পুরুষের গোঙানিডাক

গলায় পেঁচানো রঙিন শাড়ির আঁচল 

বর্ষাতি ভোর রাতে কুকুরের চিল্লানিতে

ধমনীতে সাঁতরায় কেন পায়রার দল।


৮.

বৃষ্টির প্রতিধ্বনি আমিও জানি

নাচে ফুসফুসে রোজ 

বগলে গুঁজে গোলাপি ফুল

শহরে শহরে প্রেমিকাকে খুঁজ।


৯.

শববাহকের কাঁধে মৃত লাশ

সবাই সঙ্গে নিয়ে হাঁটছে

দোষ গুণ যা ছিলো চলছে বলাবলি

আগুন বলেনি মিথ্যা কাউকে।


১০.

শুনেছি প্রেমে ঠাসা ছিল মেয়েটি

গতরে ছিল বারো মাস জোনাকি

পুষে ছিল অন্ধকারে প্রতিবিম্ব পুরুষ

কে জানতো তার ফুসফুসে রক্তের দোষ।


কবিতা : দশটি রঙ তুলির মানুষ

লেখক : অপূর্ব দাস

গৃহত্যাগী

গৃহত্যাগী

!"!"!"!"!"!"!'!"

আষাঢ় মাসে গাঙে আইলো নয়া বানের
পানি
আমার ভিটেমাটি বাসাইয়া নিল গৃহত্যাগী
নদী।
নদীর যদি চিনতাম বাড়ি করতাম গিয়ে
নালিশ
কেন সে ডুবাইলো সব আমার অন্তর করলো 

বিষ

হালের লাঙ্গল নতুন ফসল নয়া দুইখান
গরু
দেখতে দেখতে ডুইবা গেল ছোট্ট বোনটা
তরু
নদীর টেকে বইসা কান্ধে মা, কান্ধে বুড়া
বাপ
মনে মনে নদীরে কয় তরে দিলাম
অভিশাপ
সর্বগ্রাসা রাক্ষসী তুই থাকবি চির
দুখে
আবার আমি ঘর বানাইবো তোর চিতল
বুকে
নদী কয় দুঃখে,বেদের মত যাযাবর রই
আমি
উজান থেইকা আসে জল আসমান হয়
খালি
নামে শুধু নদী আমি জল তো আমার
নয়
আমারও দুঃখ আছে, বুকের মধ্যিখানে
ক্ষয়
এপার ভাঙি ওপার গড়ি নেইতো কারো উপর

খেদ
জন্মই আমার ভাঙা গড়ার, জানিনা অহর্নিশ   

ভেদ

আমার আছে বসতভিটা নদীর অথৈ
জল
হিসেব করে দেখি নদীর আমার চেয়ে
বল
চৈত্র মাসে হাঁটি যখন আমি নদীর
বুকে
পাষানিয়া মন কি বুঝে নদীর দুঃখ
কিসে
নদী বাঁচায় নদী মারে নদীই করে
গৃহত্যাগী
নদীরে তোরে ছাড়া আবার আমার জীবন

আধাআধি।

কবিতা : গৃহত্যাগী
লেখক : অপূর্ব দাস

দশটি রঙ তুলির মানুষ

দশটি রঙ তুলির মানুষ

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"


১.

সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরছে পাখি

জলে ঘাসফড়িং এক ঝাঁক

বুড়ো মাঝি কাঁদছে দেখে

রক্তাক্ত উদাম মেয়েটির লাশ।


২.

পাড়ার মোড়ের গলি, সকালে 

হেঁটে স্কুলে যাচ্ছে নতুন বউটি

আঙুলে চুমু দিয়ে হাসছে

বুড়ো ভুঁড়িওয়ালা লোকটি।


৩.

বৃষ্টির পানিতে রাস্তা থইথই

অমলদা বাড়ি ফিরছে বহুদিন পর

শিশুকে কোলে নিয়ে নাচছে হিজড়েরা

শ্বেতাঙ্গিনী মেয়েটি দেখছে ব্যস্ত শহর।


৪.

সবুজ ঘাসে বসে একটি পুরুষ

পাখি নেই গাছে ঝরছে পাতা

যেখানেই তাকায় আকাশ জমিন আছে,

মনে নেই পিতার মুখ।


৫.

উড়ে যাচ্ছে কাক রোদের ঝাপটা চোখে

কাপড় নাড়ছে নারী দুপুরে ছাদে

বক্ষবন্ধনি ঝুলে আছে দেখে

পড়শী ছেলেটি দূরে মুচকি হাসে।


৬.

সাপ আর ব্যাঙের মাঝে শুয়ে আছে মাছ

বাইরে নৌকোর গলুয়ে জোস্নার চলাফেরা

হাতকড়া ছাড়া রোমশ রাতটা চলে যাক 

আজ নাসারন্ধে চাইনা বন্দুকের ধোঁয়া,থাক।


৭.

বিছানায় নারী পুরুষের গোঙানিডাক

গলায় পেঁচানো রঙিন শাড়ির আঁচল 

বর্ষাতি ভোর রাতে কুকুরের চিল্লানিতে

ধমনীতে সাঁতরায় কেন পায়রার দল।


৮.

বৃষ্টির প্রতিধ্বনি আমিও জানি

নাচে ফুসফুসে রোজ 

বগলে গুঁজে গোলাপি ফুল

শহরে শহরে প্রেমিকাকে খুঁজ।


৯.

শববাহকের কাঁধে মৃত লাশ

সবাই সঙ্গে নিয়ে হাঁটছে

দোষ গুণ যা ছিলো চলছে বলাবলি

আগুন বলেনি মিথ্যা কাউকে।


১০.

শুনেছি প্রেমে ঠাসা ছিল মেয়েটি

গতরে ছিল বারো মাস জোনাকি

পুষে ছিল অন্ধকারে প্রতিবিম্ব পুরুষ

কে জানতো তার ফুসফুসে রক্তের দোষ।


কবিতা : দশটি রঙ তুলির মানুষ

লেখক : অপূর্ব দাস

ভালোবাসার আবাদ চলছে

ভালোবাসার আবাদ চলছে 

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!


এ বছর ভালোবাসা আবাদ করলাম বুকে

উথলে উঠলো প্রেম সর্ব অঙ্গে অঙ্গে

সদা যুগলরূপে উদয় হলো প্রণয়

তোমার দরশনে 

শীতের চিবুক ধরে দেখি

লাজুক মুখ অনুরাগে সিক্ত

চঞ্চল চিত্তে চন্দন মেখে ভাবি

বুকের বৃন্দাবনে তুমিই বটবৃক্ষ

পাঁজরে স্বর্ণলতার ঝাড়

ভেবে স্বস্তি পাই দেহ মনে

মুমূর্ষু হৃদয় বাঁচাতে

তোমাকেই পাশে দরকার

তবেই না প্রেমে প্রেমে ভরে উঠবে প্রেমউদ্যান

বুকের মাটি সহ্য করে নিতে পারবে

তোমার বিরহ -চিহ্ন, বেদনার বিষাক্ত ফণা

আমি হিয়ার মাঝে ডুব দিয়ে তখন

ঘন্টা বাজাবো জোড়ে

একটি মুমূর্ষু হৃদয় বাঁচাতে

হৃদয়বান রমণীর প্রয়োজন

শুধু ভালোবাসার আবাদ চলছে

সারাজীবন চাই নিরপেক্ষ নির্মল আলিঙ্গন।


কবিতা :ভালোবাসার আবাদ চলছে

লেখক : অপূর্ব দাস

হারানো শৈশব

হারানো শৈশব 

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!


লাটিম ঘুড়ি মার্বেল সব

হারিয়ে গেলো আমার শৈশব

কাদা মাটি ধুলোবালি পথ

হারাতে হারাতে হারালো সব।


প্রেমিক বন্ধু প্যান্টের দাগ

হাসিমাখা দিন পুরোনো রাগ

হারাতে হারাতে হারালো সব

আমার স্কুল অপূর্ব শৈশব।


রঙিন বায়েস্কোপ লাল কাঠির লজেন্স

ফেরিঘাট নদী কাঠের ব্রেঞ্চ

শীতের সকাল বক শিকারীর দল

হারাতে হারাতে হারালো সকল

আমার শৈশব পাহাড়ের ঢল।


বৈষ্ণবীর তিলক মনে চরক পুজোর বাদ্য

নৌকা বাইছ ষাঁড়ের লড়াই ছড়া আর পদ্য

হারাতে হারাতে হারালো সব

বাবার কাছে বায়না প্রিয়তম শৈশব।


কবিতা : হারানো শৈশব

লেখক : অপূর্ব দাস

অচল পয়সা

অচল পয়সা

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!!


অচল পয়সা নকল পয়সা

ফেলে দিতে দিতে

কখন যে তুই হাতের মাঝে এলি

ছৌড়ে ফেলতেও পারি না

বলতেও পারি না

ধুয়ে মুছে তাই বুক পকেটেই রাখি।


অচল পয়সা

তোকে ভালোবেসে ভীষণ

বুক পকেটে রাখার ইচ্ছে ছিল অনেক

কিন্তু তুই আমাকে

দুঃখ আর কষ্টই দিলি বেশি

এখন আমি পকেটওলা শার্ট পড়ি না

কারণ খুচরো পয়সার মত কষ্ট

ঝনঝন করে বাজে বুকে

এতো কষ্ট নিয়ে কি পথ চলা যায়

বুক ভীষণ ভারি ভারি লাগে

ঘুম আসে না ঘুমের রাত্রে

কারো সঙ্গে কথা বলতেও খুব কষ্ট হয়

মানুষেরা সব অবাক চোখে থাকে

ভাবে একটা অচল পয়সা কি করে

একটা সচল জীবনকে নিশ্চল করে দেয়

ভুলিয়ে দেয় পৃথিবীর সমস্ত সুখ

অথচ মানুষেরা কত সযত্নে

অচল পয়সা ছিদ্র করে

গলায় আর কোমড়ে ঝুলিয়ে রাখে

কেউ কেউ আবার বুক পকেটে

সেই যে রাখে

আর ফেলে না

সারাজীবন অচল পয়সা

বুকেই কাঁদ্দে বুকেই ঘুমায়

মানুষের জন্য মায়া পড়ে যায়

অথচ আমার জন্য তোর কোনো

মায়া নেই, অচল পয়সা।


কবিতা : অচল পয়সা

লেখক : অপূর্ব দাস 

প্রেম প্রহরে রাত্রি পোহাই

প্রেম প্রহরে রাত্রি পোহাই

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"


ক.

শুদ্ধ অক্ষর দিয়া জ্ঞানবাতি জ্বালাই

অশুদ্ধ অক্ষর দিয়া প্রেম ভালোবাসা চালাই।


খ.

হৃদয়টারে ছান্ধিয়া

ইট পাথরে বান্ধিয়া

নাগর তোমায় রাখলাম আমার মনে

না বুঝিয়া প্রেমের ভাও

তোমার সঙ্গে ভাসাইলাম নাও

কুল যেন পাই অথৈই জলের চরে।


গ.

মনে আছো মনের মানুষ

তোমার মনে ক্ষনেক্ষনে

ভাসিয়া বেড়াই

সুখ দিও আধাআধি

প্রেম দিও তোমার সবটাই।


ঘ.

তুমি আছো বুকের ছাঁচে

তোমায় একটু দেখলেও প্রাণ বাঁচে

তাইতো তোমায় রাখি আমার হৃদয় ধারে

যেন অন্য কারো নজর না পড়ে।


ঙ.

প্রেম দিও পুরোপুরি

মনে বইবার দিও ঠাঁই

আমরণ পাশেপাশে ভালোবাসা চাই

কভু যেন তোমায় নসিবে না হারাই।


কবিতা : প্রেম প্রহরে রাত্রি পোহাই

লেখক : অপূর্ব দাস

বুকের ভেতর কয়েকশ উপনিষদ

বুকের ভেতর কয়েকশ উপনিষদ

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"""!"!"!"!"!"!!!""!"!"!"!"!""


পরাণ থাকিতে যদি তোমায় পরাণে না পাই

হৃদয়ে হৃদয় ঘষে তবে কোথায় ভালোবাসা চাই?

হায়! কি করে মনরে বুঝাই

শব্দের পুলোকিত পল্লবে তাই

নাই -নাই - নাই  হৃদয়জুড়ে সবটুকু ছাই

তোমার ঈশ্বরের দোহাই

আমার হৃদয়খানি দলিত সম্প্রদায়

কোরবানি বলি জবাই চায় না কোনোটাই

শুধু তোমার পরাণে পরাণ ঘষে

আমার দেহ মনে উপোস ভাঙাও

আমি বত্রিশ বছর তোমার প্রেম ভালোবাসাহীন

বুকের ভেতর কয়েকশ উপনিষদ

জ্বলছে দাউ দাউ।


কবিতা : বুকের ভেতর কয়েকশ উপনিষদ

লেখক : অপূর্ব দাস

এসো..

এসো.. 

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!!


এসো আমার সুন্দর বেদনায় সুন্দরী

মাটিতে হেঁটে একবার -ঘাসেতে

মুন্ডকধারী দেবীর মত খড়্গ হস্তে

ইটের সিঁড়িতে নয়

আমার লোমশ বুকে রাখো তোমার

আলতারাঙা নিকোটিন পা

কি হবে দেখে এমন সবুজ কচুরি পানায়

মাছরাঙা পাখির রঙিন পালক ডানা

দেখোনি কী কখনো এই যুবকের চোখে

কোনো সর্বনাশ কোনো নিশা।


কবিতা : এসো

লেখক : অপূর্ব দাস

বৃক্ষের গান

বৃক্ষের গান 

/////////++++++/////////++++/////


বৃক্ষের গান -১

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!!

ক 

সবুজ বৃক্ষ

তুমিও কী আমার মতো

বুকে পুষে রাখো দুঃখ

অপবাদ- অপমান রাখো না গায়ে

রৌদ্র কিরণে শুকাও হৃদয়ের ক্ষত।

খ 

সবুজ বৃক্ষ

তোমার জন্য আজ হাজার প্রেমিকা শোকাহত

অমন নৈঃশব্দ্য নীরবে তোমার চলে যাওয়ায়

ঘাসের শীতল পাটিতে বসে জমছে না জম্পেস

আড্ডা।


বৃক্ষের গান -২

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!!

আমি বৃক্ষের কাছে কৃত

কেননা সে আমায় ছোটবেলায়

শুকিয়েছে অনেক ক্ষত।


আমি বৃক্ষের কাছে চির মাথানত

কেননা সে আমার দীক্ষাগুরু

হতে চাই তার মতো।



কবিতা : বৃক্ষের গান

লেখক : অপূর্ব দাস

চতুর নয়ন

চতুর নয়ন

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!


বুঁদবুঁদ বুঁদবুঁদ বাড়িল বুকে স্রোত 

চোখ চায় চরাচরের চৈত্রে 

তোমার নয়নের বান চতুর হইলো 

বিধিলো আমার বদির বক্ষে।


কবিতা : চতুর নয়ন

লেখক : অপূর্ব দাস

যোগী ও চাঁদ বদন

যোগী ও চাঁদ বদন

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!


না জানি যোগী তোমার

                                   দেহ মন আদি

ভাসাইলা জলে চাঁদ

                              না ধরিতে পারি


পরাণ হইতে তাড়াই দিলা

                                     প্রিয়তম প্রাণ

নয়ন জলে খুঁজি তারে

                               দেহের ছায়ায় আসমান


শয়নে না আসে ঘুম

                              শুধাই কার সঙ্গে

প্রাণ বিনে কি প্রাণনাথ

                                থাকিবে এ অঙ্গে


বৃক্ষের ঝরে পত্র পল্লব

                                 আমার হয় অঙ্গহানি

একদিকে যেমন প্রাণ আমার

                          আরেকদিকে দেহখানি


না বুঝি যোগী তোমার

                                দেহ মন আদি

আকাশে দেখাইলা চাঁদ

                               মাটিতে বদনখানি।



কবিতা : যোগী ও চাঁদ বদন 

লেখক : অপূর্ব দাস

আত্মার আত্মজীবনী

আত্মার আত্মজীবনী

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"""!"""


জীবন রে চিনলাম না তরে

ভালো ছিলাম মাতৃগর্ভে

আমরা দুজনে, জীবন রে 

আমায় ধরে কেন আনলি ভবে

নিশিদিন কেঁদে


মায়ের কষ্ট নমাস জানি

আমার কষ্ট জীবনভর

যারা আমার আপন হবে 

তুই চলে গেলেই হবে পর

জানবে না কেউ দেহের ভেতর

আমরা ছিলাম জঠরে


মানুষ জন্মে যে যার ধর্মে

আমার কোনো ধর্ম নাই

মাতৃগর্ভেই মানুষ ছিলাম

জন্মের পর মানুষ নাই

মায়া হয়ে কায়ার ভেতর

দেহ ধরি আত্মায়

জীবন রে তরে একলা রেখে

 যাচ্ছি আমি আরেক দেহের উপরে।


কবিতা : আত্মার আত্মজীবনী

লেখক : অপূর্ব দাস

মনে মনে সমুদ্রে ঝাপ

মনে মনে সমুদ্রে ঝাপ

!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"!"""!"!"!


আমি ব্যর্থতায় চুমেচুমে  বারুদকে বুঝেছি

আমি শূন্যতায় চুমেচুমে সমুদ্রকে খুঁজেছি

আমি দীর্ঘশ্বাস নিতে নিতে দারিদ্র দেখেছি

আমি আগুনে ঝলসে পঞ্চাননকে খুঁজেছি

আমি জলের তরঙ্গ দেখে

মনে মনে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছি

আমার ভিজেনি শরীর, তবু ভিজেছে

দেয়াল জোড়া চোখ!


আমি সবুজ

আমি অদ্ভুত

আমি পাগলাটে

আমি পাখির মত ডানা ঝাঁপটে

তোমাকে দেখাই  শরীর হতে সমুদয় বুক

আমি আগুনের ফুলকি গুঁড়ো গুঁড়ো ক্রোধ

তুমি আমাকে দেখাও তিনপাতা মিথ্যে

ভাঙা কবিতা, বেজন্মা পুরুষ।

আমি শৈশবের    সুন্দর

সারা জীবনের    আকাশ

আমি ভুলের      আপত্তি

আমি ছোট ছোট পায়ের দৌড়ঝাপ

আমিই আবার তোমার আঠালো প্রেম

তলপেটের উল্লাস।


হে পুরুষ

চেটে দেখ আমার পতনের শব্দ

গালে আত্মজীবনী

ঠোঁটে কথা না রাখার নামাবলী

গোপনের জবাফুল

             তোমার প্রাক্তন সুন্দরী।


আজো শতাব্দীর জরায়ুতে সমুদ্র সঙ্গম খিদে

দেখ, পুড়ে যাচ্ছে কবিতার সাদাপৃষ্ঠা

কী সুন্দর আগুনে আগুনে!

আমি ভাসতে ভাসতে কোথায় যাচ্ছি

সত্যিই কী সমুদ্রে? সমুদ্রে?


কবিতা : মনে মনে সমুদ্রে ঝাপ

লেখক : অপূর্ব দাস

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...